ফেসবুকের পোস্ট নিয়ে সংঘর্ষে নিহত ১


ফেসবুকে পবিত্র কাবাঘর নিয়ে আপত্তিকর পোস্টের জেরে উত্তাল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট ও বাদুড়িয়া। কয়েকদিন ধরে গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তাল অবস্থা থাকার পর বৃহস্পতিবার এক ব্যক্তির মৃত্যু খবর চাউর হতেই ফের রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বসিরহাট। উত্তেজনা ছড়াল কলকাতাতেও।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে মৃত্যু হয় কার্তিক ঘোষ নামে ওই ব্যক্তির। গত মঙ্গলবার দুপুরে চ্যাতরা বাজারে মিষ্টির দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় গণপিটুনির শিকার হন তিনি। তার পর থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এদিকে বিজেপি দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি কার্তিক ঘোষ তাদের দলীয় সমর্থক। কার্তিকের মৃত্যুর খবর পেতেই আর জি কর হাসপাতালে ছুটে যান রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ, অভিনেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় ও কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কিন্তু হাসপাতালে ঢোকার মুখে তৃণমূল কর্মীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন তাঁরা। হাসপাতালে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় তাঁদের।

বিজেপির অভিযোগ, মৃতের পরিবারের সঙ্গে হাসপাতালে বিজেপি নেতানেত্রীরা দেখা করতে গেলে তুমুল গোলমাল শুরু হয়। তৃণমূলের কর্মীরা বিজেপি নেতাদের গাড়িতে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনার পরই হাসপাতাল চত্বরে তৃণমূল ও বিজেপিকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে আসে।

অন্যদিকে, কলকাতার আর জি কর হাসপাতালের ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বসিরহাট। ১৪৪ ধারা অমান্য করে দলে দলে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন। বসিরহাটের রাস্তায় টায়ার পুড়িয়ে অবরোধ এবং বিক্ষোভ শুরু হয়। বসিরহাটের বিভিন্ন স্থানে তৃণমূলের তিনটি কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চলে। বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। ফলে আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকেও বসিরহাটের কদমতলা, কাহারিপাড়া, নৈহাটি, দণ্ডিরহাট, ঝাউতলাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে বিক্ষোভ। বিক্ষোভের জেরে ফের আতঙ্ক নেমে এসেছে এলাকায়। বন্ধ হয়ে গিয়েছে দোকানপাট, রাস্তাঘাট সুনসান। এলাকায় আধা সেনার টহল আরো বাড়ানো হয়েছে।

অন্য বিডি আপডেট