মোস্তাফিজ সম্পর্কে কিছু কথা


মোস্তাফিজ

বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিস্ময় বালক মুস্তাফিজুর রহমান। ১৮ জুন ভারতের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নিজের অভিষেকেই ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত করেন, হন ম্যান অব দ্য ম্যাচ। দ্বিতীয় দিনে আরও বিস্ময় ছড়ালেন। পেলেন ছয় উইকেট। ইতহাসের পাতায় লেখালেন নিজের নাম। গড়লেন নতুন রেকর্ড।

মুস্তাফিজের লেখাপড়ার ব্যাপারে বেশ সাবধান ছিলেন বাবা ব্যবসায়ী আবুল কাশেম। তিনি চাইতেন ছেলে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া হলো না তার। হলেন ক্রিকেটার এখন ১৬ কোটি মানুষের গর্ব।

সাতক্ষীরা থেকে ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণে কালীগঞ্জ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামে মুস্তাফিজের বাড়ি।
মুস্তাফিজের জন্ম ১৯৯৫ সালে সেপ্টেম্বরে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট তিনি।

সেই একদিন গ্রামের তেঁতুলিয়া মাঠের এক খেলায় তাঁরা তিন ভাই-ই খেলছিলেন। তখন মুস্তাফিজ ব্যাটিং করতে ভালো বাসতেন। প্রতিপক্ষের একজন ব্যাটসম্যানকে কিছুতেই আউট করা যাচ্ছে না। মুস্তাফিজের হাতে তিনি তুলে দিলেন বল।
প্রথম বলেই মুস্তাফিজ প্রতিপক্ষের সেই অপ্রতিরোধ্য ব্যাটসম্যানকে আউট করেন। তারপর বোলার হওয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েন। মোখলেছুর রহমান: মুস্তাফিজের সেজ ভাই মোখলেছুর রহমান প্রতিদিন ভোর রাতে তেঁতুলিয়া থেকে ৪৫ কিলোমিটার দুরে মোটরসাইকেলে করে সাতক্ষীরা নিয়ে আসতেন প্রশিক্ষণের জন্য। অনূর্ধ্ব-১৪ হয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলে ধারাবাহিকভাবে সফল হয়েছেন মুস্তাফিজ।
এরপর এলেন ঢাকার শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ফাস্ট বোলিং ক্যাম্পে ট্রায়াল দিতে। সেখানে এসে কোচদের নজর কাড়েন। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ খেলেছেন নিয়মিত।

বাংলাদেশ দলে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সবাই চেনে ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামে। অভিষেকেই আলো ছড়ানো ক্রিকেটের নতুন বিস্ময় মুস্তাফিজকে কি তবে ডাকা যায় ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’!

অন্য বিডি আপডেট