স্কুলের পড়া বাদ দিয়ে যেমন করে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনী নারী ঝাউ


ষোলো বছর বয়সে স্কুলের পড়া বাদ দিয়েছেন। এরপর শুরু করেছেন নিজস্ব ব্যবসা। সেই ব্যবসা থেকে তিনি এখন বিলিয়নিয়ার। শুধু তাই নয়, তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ধনী নারী। তার সম্পদের পরিমাণ ৯.২ বিলিয়ন ডলার বা ৯২০ কোটি ডলার। তিনি ঝাউ কুনফেই। তার জন্ম চীনে। এ খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে বলা হয়, এখন ঝাউয়ের বয়স ৪৭ বছর। এর মধ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন লেন্স টেকনোলজি নামের নিজের প্রতিষ্ঠান। এর কাজ হলো আইফোনের গ্লাস স্ক্রিন তৈরি করা। ২০১৫ সালে প্রকাশ্যে তার কোম্পানি যাত্রা শুরু করে। আর সঙ্গে সঙ্গে তা তাকে বানিয়ে দেয় মাল্টি বিলিয়নিয়ার। ব্লুমবার্গ ও বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের মতে, তিনি ৯.২ বিলিয়নের মালিক। তার কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১ বিলিয়ন বা ১১০০ কোটি ডলার। এর আগে বিশ্বে এক নম্বর ধনী নারী ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান থেরানোস-এর ৩৩ বছর বয়সী প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমস। তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪.৫ বিলিয়ন বা ৪৫০ কোটি ডলার। কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ আনা হলে তিনি হারিয়ে ফেলেন সব। তার অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় শূন্যতে। কিন্তু তার স্থান দখল করে ফেলেছেন ঝাউ। তিনি চীনে জন্ম নেয়ায় সেখানকার কমিউনিস্ট পার্টির লিঙ্গ সমতার নীতিতে তিনি সুবিধা পেয়েছেন। এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এমআইটি’র প্রফেসর হুয়াং ইয়াশেং বলেছেন, পুজিবাদ শুরু হওয়ার পর থেকে নারীদের অর্থবান হওয়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
ঝাউ বেড়ে উঠেছেন একটি খামারে। ১৬ বছর বয়সে তিনি যখন হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন তখনই পড়া বাদ দেন। ঘড়ির লেন্স তৈরি করে এমন একটি কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। রাতের বেলা একাউন্টিং ও অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ের মতো সাবজেক্টের ক্লাসে যোগ দিতে থাকেন শেনঝেন ইউনিভার্সিটিতে। এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ওই সময়েই আমি মানসিকতা ঠিক করে ফেলি। আমি শিখতে চেষ্টা করি আপনি আমাকে কাজের স্বীকৃতি দেবেন কি না। অন্যদের সঙ্গে আমার পার্থক্য ছিল। কারণ, তারা এসেছে সঙ্গে অর্থকড়ি নিয়ে। কিন্তু আমার কাছে তো কিছু ছিল না। আমি শুধু চেয়েছি একান্ত নিজের চেষ্টায় নিজের ভাগ্য বদল করতে। এরপর ১৯৯৩ সালে ঘড়ির লেন্স তৈরির নিজস্ব কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করি আমি। হাতে তখন মাত্র দু’এক হাজার ডলার। আর আমার বয়স ২২ বছর। চীনে যখন দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল সেই সময়টাতে উদ্যোক্তা, বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ছিল প্রচুর সুযোগ। এ থেকে আমি ব্যবসার প্রসার করতে সক্ষম হই। এখন ব্যবসা করি। এতে আমার কোনো অনুতাপ নেই। আমি ব্যবসা শুরুর এক দশক পরে ২০০৩ সালে মটোরোলা কেম্পানি থেকে আমাকে ফোন করা হয়। তারা জানতে চায়, আমি তাদের নতুন আইফোন এর জন্য স্ক্র্যাচ-প্রুফ গ্লাস লেন্স বানিয়ে দিতে পারবো কিনা। আমি রাজি হয়ে যাই। এরপর অর্ডার আসতে থাকে এইচটিসি, নোকিয়া, স্যামসাং থেকে। ২০০৭ সালে অ্যাপল তাদের প্রথম আইফোন বাজারে আনে। তারাও যোগাযোগ করে আমার সঙ্গে। পাঁচ বছর পরে তিনটি শহরে রয়েছে আমার কারখানা। ২০১৭ সালে এসে আমার কারখানার সংখ্যা ৩২ টি। সেখানে কাজ করেন ৯০ হাজারের বেশি মানুষ।
ঝাউ যে গ্রামে বড় হয়েছেন সেখানকার মেয়েরা এখনও বেছে নিতে পারেন না তারা স্কুলে পড়াশোনা করবেন নাকি বিয়ে করবেন।

অন্য বিডি আপডেট